মূল বিষয়বস্তুতে যান

চট্টগ্রামের জলবায়ু ও মাসিক আবহাওয়ার গড়

চট্টগ্রামের লাইভ আবহাওয়া

এই নির্দেশিকা চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জলবায়ু বর্ণনা করে, সরাসরি ১৫ দিনের পূর্বাভাস নয়। মাসিক গড় বিভিন্ন ঋতুর মধ্যে তুলনা করতে সাহায্য করে, নির্দিষ্ট দিনের আবহাওয়া বলে না। সময় বাড়ার সঙ্গে পূর্বাভাসের অনিশ্চয়তা সাধারণত বাড়ে। আসন্ন আবহাওয়ার জন্য বর্তমান সাত দিনের পূর্বাভাস দেখুন।

চট্টগ্রামে স্বাভাবিক আবহাওয়া — মাসে মাসে

মাসসর্বোচ্চসর্বনিম্নবৃষ্টিবৃষ্টির দিন
জানুয়ারি২৪.৩°১৫.৩°৬.৮ mm১
ফেব্রুয়ারি২৬.৯°১৭.৫°১৪.৩ mm১.৯
মার্চ৩০.১°২১.৭°৪৯.৭ mm৪.৬
এপ্রিল৩১°২৪.৮°১০২.৮ mm৯.৮
মে৩০.৬°২৫.৮°২৯০.৪ mm২০.৬
জুন২৯.৪°২৫.৯°৫১৩ mm২৭.১
জুলাই২৮.৮°২৫.৬°৫৪২.৯ mm২৯.৬
আগস্ট২৯°২৫.৫°৪৪৭.৯ mm২৯.৩
সেপ্টেম্বর২৯.৩°২৫.৩°৩৪৫.৪ mm২৬.৩
অক্টোবর২৯.৪°২৪.৩°১৯২ mm১৬.৯
নভেম্বর২৭.৭°২০.৭°৪৪ mm৩.২
ডিসেম্বর২৫.১°১৬.৯°১৩ mm১.৩

বছরের মোট ২৫৬২ মিমি বৃষ্টির ৭২% জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পড়ে, তাই এই চার মাসে ১৫ দিনের পূর্বাভাস দেখার মানে হলো — পরের বৃষ্টির পর্ব কবে তা দেখা, কোন দিন কতটা বৃষ্টি হবে তা নয়। এখানে শুকনো মরসুম পুরোপুরি শুকনো নয়: নভেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যেও ২২ দিন বৃষ্টি হয়, সব মিলিয়ে ২৩১ মিমি — এতটাই যে বর্ষার বাইরেও দুই সপ্তাহের পূর্বাভাস দেখা কাজে লাগে।

চট্টগ্রামে দুই সপ্তাহের পূর্বাভাস কতটা বলে

এখানে বর্ষা হঠাৎ নামে না, ধীরে ধীরে জমে ওঠে। জুলাই মাসে মে মাসের প্রায় ১.৯ গুণ বৃষ্টি হয় — বৃদ্ধিটা সত্যি, তবে ধীর — তাই এখানে দুই সপ্তাহের পূর্বাভাসের আসল প্রশ্ন বর্ষা শুরু হলো কি না তা নয়, বরং কতটা বৃষ্টি হবে আর কখন।

দুই সপ্তাহের পূর্বাভাস পড়ার আগে দ্বিতীয় কাজের কথা হলো, এখানে সারা বছরে তাপমাত্রা কতটা দোলে: সবচেয়ে গরম মাসের গড় সর্বোচ্চ আর সবচেয়ে ঠান্ডা মাসের গড় সর্বনিম্নের মধ্যে ১৫.৭°C ফারাক। সবচেয়ে দ্রুত বদল আসে মার্চ মাসে, যখন গড় সর্বোচ্চ এক মাসেই ৩.২°C সরে যায়।

বছরের সবচেয়ে বড় মোড়

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর — অধিদপ্তরের হিসাবে দেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক আগমন জুনের প্রথম সপ্তাহে। দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল, অর্থাৎ চট্টগ্রাম অঞ্চল, দেশের যে অংশে বর্ষা সবার আগে পৌঁছায় — সাধারণত মে মাসের শেষ কয়েক দিনে বা জুনের একেবারে গোড়ায়। মে মাসের শেষে ১৫ দিনের পূর্বাভাস দেখলে আসল প্রশ্নটা এটাই।

চট্টগ্রামের জন্য আমরা বর্ষা শুরুর কোনো হিসাব-করা তারিখ প্রকাশ করি না, এবং কারণটা খোলাখুলি বলা দরকার। আমাদের পদ্ধতি ১ মে-র পরে প্রথম টানা বৃষ্টির পর্ব খোঁজে। দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ জায়গায় সেই পর্বটাই বর্ষা। চট্টগ্রামে প্রায়ই তা নয়: এপ্রিল-মে মাসের কালবৈশাখীর মরসুমে বারবার যে ভারী বৃষ্টি হয়, তা একই শর্ত পূরণ করে ফেলে। ৩৪ বছরের রেকর্ডে পদ্ধতিটি ১০ বছরে কোনো ব্যবহারযোগ্য উত্তরই দেয় না, আর বাকি ২৪ বছরে যে তারিখ দেয় তা সরকারি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পড়ে। যে নিয়ম তিন ভাগের এক ভাগ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়, সেটি যা মাপার দাবি করছে তা মাপছে না — তাই আমরা তার বদলে সরকারি হিসাবটাই দিচ্ছি।

দ্বিতীয় মোড়টা গরমের: এপ্রিল মাসে দিনের গড় সর্বোচ্চ ৩১°C ছোঁয়, আর বর্ষা জাঁকিয়ে বসলে তা ২.২°C নেমে যায়।

চট্টগ্রামে বর্ষা কবে আসে — পুরো রেকর্ড

তথ্যের উৎস

উৎস: Open-Meteo-র ঐতিহাসিক আবহাওয়া আর্কাইভ, যার ডিফল্ট মডেল ERA5 ও ERA5-Land পুনর্বিশ্লেষণের সঙ্গে ২০১৭ সাল থেকে ECMWF IFS HRES মেলায় — ১৯৯১-২০২৪ (৩৪ বছর)। Open-Meteo ERA5-Land থেকে বৃষ্টির তথ্য দেয় না, তাই বৃষ্টির হিসাব ERA5 ও IFS থেকে নেওয়া। তাপমাত্রা হলো দৈনিক সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মাসিক গড়; বৃষ্টি হলো মাসের মোট বৃষ্টির গড়। গ্রিডভিত্তিক অনুমান স্থানীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের মাপ থেকে আলাদা হতে পারে।

চট্টগ্রামের সরাসরি ও আগামী দিনের পূর্বাভাস আলাদা পাতায়, যা Open-Meteo থেকে আসে (ECMWF ও অন্যান্য মডেল)।